1. mj.fakir1984@yahoo.com : Jahangir Hossain : Jahangir Hossain
  2. rubelmadbor786@gmail.com : Rubel Madbar : Rubel Madbar
  3. msalamc@gmail.com : superadmin :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

মুসলিম হিসেবে যেভাবে কাটছে আমার প্রথম রমজান

মুন্সিগঞ্জ ক্রাইম টিভি ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ৪ মে, ২০২০
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে
ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

মসজিদ খোলা নেই, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থান বন্ধ। তাই বিশ্বের প্রায় ০২ বিলিয়ন মুসলমান প্রথমবারের মতো নিভৃতে রমজান যাপন করছেন।

এখানে, এই নিউইয়র্কের কুইন্সে, যেখানে করোনাভাইরাস মহামারীর কেন্দ্রবিন্দু, আমিও প্রথমবারের মতো রমজানের অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। এই বছর, আমি রোজা রাখছি, প্রার্থনা করছি এবং আমার মুসলিম পরিবারের সঙ্গে রমজান উপভোগ করছি ইসলামে নতুন সমর্পিত একজন হিসেবে।

২০ বছর ধরে আমি আমার স্বামী ও আমাদের বাচ্চাদের ভিন্ন বিশ্বাসের পরিধির ভেতরে থেকেছি এবং তাদের সমর্থন করেছি আমার ক্যাথলিক ধর্মকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে। সেই সব বছর রমজান আমার জন্য ছিল বছরের সবচে’ একাকী সময়, কেননা, তা তখন আমার সবচে’ প্রিয় মানুষদের থেকে দূরত্ব চেয়েছে।

এই রমজানে, এই একসঙ্গে সবাই একাকী থাকার সময়ে, যখন অনেক মুসলিম সম্প্রদায় কমিউনিটির হারানো সদস্যদের জন্য শোক করছে, তখন এসে আমি খুঁজছি লোকজনের সঙ্গ এবং আমার নিজের বিশ্বাসের সেই সার্বজনীন পরিবেশ, তাই আমার একটু অপরাধবোধ হচ্ছে।

মার্চ মাসে, প্রায় রাতারাতি, আমার সেই মুখর পাড়াটি যেন অন্ধকার দোকানমুখ হয়ে গেছে, এই প্রাণবন্ত লোকালয় যেন নীরব বসতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কুইন্সে আক্রান্তের সংখ্যা তখন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১,০০০। খালি রাস্তা, বিচ্ছিন্নতা এবং ভয় এখানকার জনজীবনে স্থান করে নিয়েছে।

আমাদের খিল ধরানো অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে আমার ফ্যামিলি চেষ্টা করেছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ ধরে রাখার। কিন্তু আমার স্বামী কাজের বাইরে, আমাদের কিশোর দুটি ‘দূরযোগী শিক্ষা’র সঙ্গে কুস্তি লড়ছে, আর আমি লেখার জন্য নিরন্তর একটি শান্ত কোণ খুঁজছি, অর্থাৎ স্বাভাবিকতা অসম্ভব।

তবুও, এখন যেহেতু আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি, আমার দিনগুলো প্রার্থনার একটি নতুন কাঠামো পেয়েছে। দিনে পাঁচবার আমার স্বামী এবং আমাদের দুটি ছেলের সঙ্গে লিভিংরুমে যোগদান করি। প্রতিবার প্রার্থনায়, যখন আমি অবনত হই কিংবা মুসল্লায় মাথা রাখি, তখন আমার সব উদ্বেগ নিষ্কাশিত হয়ে শান্তির আবেশ এনে দেয়।

ইসলামে আমার পথযাত্রা ছিল অন্য অনেক ধর্মান্তরিতদের চেয়ে দীর্ঘ। বছরের পর বছর ধরে আমি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের সঙ্গে আমার বিয়েতে খুশিই ছিলাম। এমনকি আমাদের বাচ্চারাও এমন বিশ্বাসে বেড়ে উঠছিল যা আমার নিজের নয়।

আমার রূপান্তরটি ঘটেছে মাত্র গত বছর। গত গ্রীষ্মে আমরা উত্তর আফ্রিকাতে আমার স্বামীর পরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলাম, শহরজুড়ে প্রার্থনা করার জন্য সূর্যোদয়ের ডাক যথারীতি আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে।

ঠিক সেই মুহূর্তে আমি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যে, আজানের কথাগুলো কেবল অন্যদের জন্য নয়। ইসলাম তারপর আর আমার কাছে বহিরাগত কিছু হয়ে থাকল না, ভেতরে ঠাঁই করে নিল।

এখন, নিউইয়র্কে বসন্ত এসেছে, তবে এ-বছর সঙ্গে নিয়ে এসেছে বাইরে বেরুবার পরাবাস্তব ভয়। ঘরের কোণে ডগউড গাছগুলি কুঁড়ি-মুকুলে ভরে গেছে; রাস্তার পাশজুড়ে একটুকরো বাগানে ফুটে আছে জাফরান, নার্গিস আর টিউলিপ। তবে করোনাভাইরাসের এই সময়ে, আমি বেশিরভাগ সময় বসন্ত দেখি অন্ধকারেই।

পথঘাট জনশূন্য হলে পরে সন্ধ্যায় আমার স্বামী ও আমি একটু হাঁটাহাঁটি করি। অন্ধকারেই তখন লক্ষ করি পুষ্পপল্লবের মুখ।

বরং আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যেই এবার বসন্ত খুঁজে পাচ্ছি। ভুলক্রমে রেখে দেয়া পুরোনো একটি স্প্যাগেটি কুমড়া কেটে দু’ভাগ করে ফেললাম, ভিতরে দেখি যে, তার পিঙ্গল হলুদ বীজগুলি গলাগলি ধরে সবুজ অঙ্কুর ফোটাচ্ছে।

আমি আর তাদের অঙ্গচ্ছেদন না করে সেগুলিকে একটি ডিমের বাক্সে লাগিয়ে দিলাম। আমার জানালার গোবরাটে তখন থেকে নানা জাতের খোল ও বীজের ভিড়: কুমির নাশপতিগুলো পানিভর্তি কফিকাপে বিশ্রাম নেয়, পাথুনির গুচ্ছগুলো চুপিসারে নতুন ডাঁটা ফোটায়, একটি রত্নলাল পেঁয়াজ ক্রমশ উর্ধ্বে পাঠায় তার গজকলি। জানালা গলে আসা বিকেলের নরম আলোতে সবগুলি সজীব হয়ে ওঠে।

পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন, তবু আমার চারাগুলোর দিকে ফিরলে আমি বসন্তের স্নিগ্ধতা খুঁজে পাই। ওগুলো রোপণ করেছি শুধু দেখতে যে, একটি জীবন কিভাবে শিকড় গাড়ে এবং বিকশিত হয়।

আমি প্রমাণ করতে চাই যে, এতটা নাজুক হয়েও যেভাবে আমি নিজেকে এবং আমার পরিবারকে এখন জানি, রক্ষা করার জন্য কিছু পারি। যখন আমি মাটিভর্তি একটা জ্যামের বয়ামে বেল মরিচের ক্ষুদ্র বীজ বপন করি, তখন আমি নিজেকে যেন এই পৃথিবীতে ব্যাপ্ত করি, কোনও পরিবর্তনের পরোয়া করি না।

আমার কুমড়া-চারা পর্যবেক্ষণ যেন এখন ভবিষ্যতের দরপত্র পাঠের মতো হয়ে গেছে।

ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যের এই পবিত্র মাসে যেভাবে আমি অন্যান্য মুসলিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছি, তাতে এই রমজানে আমার ইমান যেন সেই চারাগুলোর মতোই।

আমার কমিউনিটির মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, তবুও রমজানের প্রতিটি দিন আমার পরিবার ও আমি রোজা রাখি এবং সূর্যাস্তের সময় একত্রে রমজান-ভোজ (ইফতার) সারতে ও প্রার্থনার করতে জড়ো হই, ঠিক যেমন বিশ্বজুড়ে অন্যসব মুসলিম পরিবার করে থাকে।

আমাদের টেবিলটি সাজানো থাকে আলজেরিয়ান ‘হারিরা’র পাত্র এবং আমাদের ছেলেদের পছন্দের খাবার দিয়ে। থাকে আলুর চপ ও স্টাফ, মধু সহযোগে তৈরি ভেড়ার রোস্ট। সবগুলো আচ্ছাদিত থাকে পেঁয়াজের কলি আর আমার জানালার গোবরাটে হওয়া পাথুনির পাতা দিয়ে।

নবী মুহাম্মদের (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এর একটি হাদিস আছে, তাতে বলা হয়েছে যে, যদি পৃথিবীর শেষদিন আসে এবং তোমার হাতে একটা চারা থাকে, রোপণ করে দাও।

আমার ঘরকে নতুন জীবন দিয়ে পূর্ণ করে, আমার পরিবারের প্রার্থনাগুলো আমার কণ্ঠস্বর দিয়ে সম্পন্ন করে আমি যে স্বস্তি আরাম পেয়েছি, ইনশাআল্লাহ, আমার প্রথম রমজান এবং এই মহামারীর মধ্য দিয়ে আমার পথও খুঁজে পাব।

নোট: ম্যারি ক্যাথরিন ফোর্ড নিউইয়র্কের কুইন্সে বসবাসরত একজন লেখক। তিনি কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিষয়ে স্নাতক এবং কুইন্স কলেজ থেকে সৃজনশীল লেখালেখির ওপরে এমএফএ (মাস্টার্স অব ফাইন আর্টস) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

নিবন্ধটি ৩০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Munshiganjcrime
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmunshiga45