1. mj.fakir1984@yahoo.com : Jahangir Hossain : Jahangir Hossain
  2. rubelmadbor786@gmail.com : Rubel Madbar : Rubel Madbar
  3. msalamc@gmail.com : superadmin :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

শ্রীনগরে শ্রমজীবী নারীদের বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি করোনা

আওলাদ হোসেন
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসও শ্রমজীবী নারী শ্রমিকদের বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। জীবন ও জীবিকার তাগিদে হাড়ভাঁঙা পরিশ্রম করে জীবনযুদ্ধে এখনও টিকে আছেন তারা। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজার ও স্থানীয়দের বাসা বাড়ি ভাড়া করে। করোনা মোকাবেলায় বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে পরে। তারপরেও পেটের তাগিদে পরিবারের নারী পুরুষরা সবাই এখন বাহিরমুখি। সমান তালে কাজ করছেন তারা। লক্ষ্য করা গেছে, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া এলাকায় বেশ কিছু নারী ও পুরুষ শ্রমিক মাটি কাটার কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৪০ জন নারী পুরুষের একটি দল মাটি কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লক্ষ্য করা যায়, এখানে শ্রমজীবী নারীর সংখ্যাই বেশী। নারীরা মাথায় করে বাশের ঝুড়িতে (উরা) করে মাটি আনছেন। ছোট্র একটি রাস্তা নির্মাণ কাজে মাটি ভরাট করছেন। দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিকরা পাশের জমি থেকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে দিচ্ছেন আর নারী শ্রমিকরা ঝুড়ি ভর্তি মাটি মাথায় করে আনছেন। তারা সবাই কাজে ব্যস্ত।

এ সময় আমেনা বেগম (৪০), জামিলা বেগম (৩৫) রহিমা (৪০) সহ বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা এতোদিন করোনা রোধে কর্মহীন হয়ে পরেছিলেন। করোনা মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে কিছু ত্রাণ সহায়তা পেলেও পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী তা খুবই সামান্য। লকডাউনের আগে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের একক আয়েই তাদের সংসার কোনও রকমে চলে যেত। কিন্তু দীর্ঘদিনের কর্মহীনতায় পরিবার পরিজন নিয়ে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পরেন তারা। এতে করে অনেকটা বাধ্য হয়েই কিছুটা বাড়তি আয়ের যোগান দিতে স্বামী-স্ত্রী সমান তালে কাজ করছেন। তারা বলেন, কি করব অভাব অনটনের সংসারে কয়েক ঘন্ট শ্রম বিক্রি করে যদি কিছু আয় হয়, তাহলে মন্দ কি? এতে করে বাসা ভাড়াসহ সাংসারিক খচর কিছুটা বাচবে। তারা বলেন, দৈনিক ৬ ঘন্টা এই কাজের জন্য মজুরি হিসেবে পান ৪০০ টাকা। পুরুষ শ্রমিক আলম (৪৫), রহিম হোসেন (৫০) বলেন, এখানে প্রায় নারীর সাথে তার স্বামীও কাজ করছেন। স্বামী-স্ত্রীর প্রতি জুটি কাজে ৮০০ টাকা পান। এছাড়াও তাদের দলনেতা (সরদার) সবাইকে অলাদাভাবে যাতায়াত ভাড়া প্রদান করেন। দলনেতা মো. রবিউল (৪৬) বলেন, তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাটি কাটার কাজ ঠিক করেন। এখানে রাস্তা নির্মাণে আরো ২ দিন কাজ করবেন তারা। আমার দলে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী। দিনের মাত্র ৬ ঘন্টা কাজ করে তারা ভালই আয় করছেন। তার খোঁজে প্রায় এমন ১০০ পরিবার রয়েছে। পরিবারের নারী ও পুরুষরা তার হয়ে শ্রমিকের কাজ করে থাকেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, রংপুর, দিনাজপুর, কুরিগ্রাম, গাইবান্ধাসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবারগুলো জীবীকার তাগিদে মুন্সীগঞ্জের বালিগাঁও বাজার ও হাট নওপাড়া বাজার এলাকায় এসে বিভিন্ন বাসা বাড়ি ভাড়া করে থাকছেন। সরদারের নির্দেশ মোতাবেক সকালে মাটি কাটতে বিভিন্ন স্থানে তারা দল বেঁধে ছুটে আসেন। মাটি কাটার পাশাপাশি এই অঞ্চলের কৃষকের চাহিদা মেটাতে তারা কৃষি শ্রমিকের কাজও করে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের কৃষিসহ সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে শ্রমজীবী এসব শ্রমিকরাও বিশেষ ভুমিকা রাখছেন বলেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Munshiganjcrime
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmunshiga45