1. mj.fakir1984@yahoo.com : Jahangir Hossain : Jahangir Hossain
  2. rubelmadbor786@gmail.com : Rubel Madbar : Rubel Madbar
  3. msalamc@gmail.com : superadmin :
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

সরকারি দুই স্কুলের ফলাফলে হতাশ মুন্সীগঞ্জবাসী

তুহিন সরকার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

সদ্য প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে জেলার তিন সরকারি স্কুলের ফলাফলে হতাশ মুন্সীগঞ্জবাসী। জেলায় ফলাফলের ভিত্তিতে শতভাগ পাশ সহ এবারো শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দীন স্কুল ও কলেজ। জেলার তিন সরকারি স্কুলের কোনটিই শতভাগ পাশ করেনি। এভিজেএম এ ফেল ৩৫ জন, কেকে গভঃ স্কুলে ফেল ৪৬ জন ও শ্রীনগর সুফিয়া এ হাই খান গার্লস স্কুলে ফেল ২১ জন। অকৃতকার্যরা অধিকাংশই গণিতে ফেল করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ইয়াজউদ্দীন এ ৪৫ জন, এভিজেএম এ ৩৫ জন, কে কে গভঃ স্কুলে ২৩ জন ও শ্রীনগর সুফিয়া গার্লস পেয়েছে ১ জন।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ জেলার এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী সেরা ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সদর উপজেলায় ২টি, গজারিয়া উপজেলায় ২টি, শ্রীনগর উপজেলায় ২টি, সিরাজদিখান উপজেলায় ৩টি এবং লৌহজং উপজেলায় ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মুন্সীগঞ্জবাসীর হতাশার সংবাদ হলো সবচেয়ে সুনামধন্য দুটি সরকারি স্কুলের নাম এই তালিকায় নাই।

দেশের অন্যান্য জেলার সরকারি স্কুল গুলোতে ঈর্ষণীয় ফলাফল করলেও মুন্সীগঞ্জ বরাবরই স্রোতের বিপরীতে।
অথচ ২০১৭ সালের জেএসসি তে এই ব্যাচ থেকে এভিজেএম এ ৬৭ জন ও কেকে স্কুলে ৫০ জন জিপিএ ফাইভ পেয়েছিল। ২ বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের উন্নতির বদলে হয়েছে অবনতি।

অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয় দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা বেশ কিছু অযোগ্য শিক্ষক বিদ্যালয়ের গুণগত শিক্ষার পরিবেশের অন্তরায়। তারা কোচিং সিন্ডিকেট করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিদ্যালয় দুটিতে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস না করানোর অভিযোগ বহু পুরনো৷ এছাড়াও শহরে বেশকিছু মানহীন কোচিং সেন্টার ও গাইডবাজ শিক্ষকরা মূল বইকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইডমুখী করায় সমস্যা আরো জটিল হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বুঝে না পড়ার চেয়ে মুখস্ততেই বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

করোনা সংকটে এভিজেএমর কিছু শিক্ষক অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ালেও, কে কে স্কুলের একটি শিক্ষকও অনলাইন ক্লাস নেননি জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের অনুরোধ থাকা স৷ে অবশ্য কে কে স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা, প্রধান শিক্ষকের কোন নির্দেশনা না থাকায় তারা নাকি অনলাইনে ক্লাস নেন নি।

বিশিষ্টজনদের মতে অভিভাবকরাও এর দায় এড়াতে পারে না। অভিভাবকরা চরম অসচেতন। বিদ্যালয়ে ভর্তি করেই এরা দায়মুক্তির পথ বেছে নেয়। চটকদার কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনে মোহিত না হয়ে শিক্ষক নির্বাচনের সময় শিক্ষকদের যোগ্যতা ও সন্তানের মানসিক বিকাশের বিষয়ে অভিভাবকদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া উচিত।

এমন অবনতির কারন জানতে চাইলে এভিজেএম এর প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন ৩৩ জন শিক্ষক রয়েছে স্কুলে। এদের মধ্যে ৩জন বিএড করছেন বাকী ৩০ জন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে। শিক্ষকের অভাবেই আমাদের ফলাফল বিপর্যায় হচ্ছে। শিক্ষক আসলেই আমাদের স্কুলের ফলাফল আশানুরুপ আরো অনেক ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

কে কে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনসুর রহমান খান বলেন আমাদের স্কুলের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হলো সাংবাদিকরা। ইয়াজ উদ্দিনে কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারে না। আমাদের এখানে যখন তখন প্রবেশ করে। ফলে তাদের ভূমিকার কারণে আমাদের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। অপরদিকে তিনি শিক্ষক স্বল্পতা, সিন্ডিকেটের বিষয়ে অভিযোগ করেছে ফলাফল বিপর্যয়ের পিছনে। যেখানে শিক্ষক ৫০% আছে শিক্ষার্থীও ৫০% পাস করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের রেজাল্ট তার চেয়ে ভালো। তিনি আরো বলেন, ইয়াজ উদ্দিন স্কুলের অভিভাবকদের থেকে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক অনেক অসচেতন। ফলে স্কুলে ভর্তি করতে পারলেই তাদের আর কোন ভূমিকা নেই। অভিভাবকদের উদাসীনতাকেই তিনি দায়ী করেছেন ফলাফল বিপর্যয়ের পিছনে।

জেলার তিন সরকারি স্কুলের এমন ফলাফলের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ইউনুচ মোঃ ফারুকী বলেন দুটি স্কুলেই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। ৫০ জন শিক্ষকের পরিবর্তে ৩২ জন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণির ক্লাস চালাচ্ছেন। দুটি স্কুলেই প্রধান শিক্ষক নেই। দুটি স্কুলেই সহকারি প্রধান শিক্ষকের একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে স্কুল দুটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বিষয় ভিত্তিকও শিক্ষক নেই স্কুল দুটিতে। এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয় পড়াচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা পাওয়ার কথা ছিল তা তারা পাচেছ না। ফলে ফলাফলে প্রভাব পরেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Munshiganjcrime
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com