1. mj.fakir1984@yahoo.com : Jahangir Hossain : Jahangir Hossain
  2. rubelmadbor786@gmail.com : Rubel Madbar : Rubel Madbar
  3. msalamc@gmail.com : superadmin :
শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

মুন্সীগঞ্জে গরীবের দাঁতের ডাক্তার ডেন্টিস্ট ফরিদুল হাসান ফরিদ

আব্দুস সালাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না বাঙ্গালীরা। ঠিক তাই এই করোনা মহামারিতে একের পর এক দাতের চেম্বারগুলো বন্ধ করে সকল ডাক্তার নিরাপদে বাসায় চলে গেছেন। সকল ডেন্টাল ক্লিনিকগুলো যখন বন্ধ। ঠিক সেই মুহুর্তে জীবনকে বাজি রেখে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন ডেন্টিস ফরিদ। যত মহামারিই আসুক না কেন দাঁতের চিকিৎসা তিনি দিয়েই যাবেন। দাঁতের ব্যাথা যার হয়েছে সে বুঝে দাঁতের মর্যাদা। তাই মুন্সীগঞ্জে তার “ফরিদ ডেন্টাল প্লাস” নামের ডেন্টাল চেম্বারটি খোলা রেখেছেন তিনি। অধিকাংশ রুগীকে তিনি ফ্রিতে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (২২ মে) ফরিদ ডেন্টালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা দূরদূরন্ত থেকে আসছে। তাদের মধ্যে কেউ বলছেন স্যার, কেউ ভাই, কেউ ডাক্তার সাহেব, কেউ বাবা, কেউ চাচাসহ শ্রেণি ভেঁদে রয়েছে সম্পর্ক। সামনে দিয়ে চলার সময় কেউ কথা না বলে যাচ্ছেন না। সবার সাথেই যেন রয়েছে নারী আর মাটির টান।

মহাকালির স্থায়ী বাসিন্দা হলেও মুন্সীগঞ্জ শহরই যেন তার জন্ম। তবে কোন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি নন তিনি। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তিক মানুষের প্রিয় ও নন্দিত মানুষ হয়ে উঠছেন দাঁতের ডাক্তার ডেন্টিস্ট মো: ফরিদুল হাসান ফরিদ।

ডেন্টিস্ট মো: ফরিদুল হাসান ফরিদ বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ সদরের সুপার মার্কেটের দোতালায় ও মানিকপুরেও ফরিদ ডেন্টাল প্লাস নামের একটি চিকিৎসালয় রয়েছে তার।

চেম্বারে কথা হয় ডেন্টিস্ট ফরিদের সাথে। তিনি জানান এই মহামারি করোনায় যেখানে সকল ডেন্টিস তারে চেম্বার বন্ধ করে দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে সেখানে আমি প্রতিদিনই দুটি চেম্বারেই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। কোথাও যখন চিকিৎসা পাচ্ছেন না তখনই আমার কাছে আসছেন। আমার কাছে এসে চিকিৎসা পেয়ে মহা খুশি তারা। এ পর্যন্ত ১৭০ জনের বেশী রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছি।

ডেন্টিস্ট মো: ফরিদুল হাসান ফরিদ জানান, রোগীরা দাঁতের ব্যাথা নিয়ে বসে ছিল করোনায়। ব্যাথ্যা সহ্য করতে না পেরে ছুটে আসছেন হাসপাতালে। কোথাও কোন দাতের চিকিৎসক না পেয়ে আমার কাছে চলে আসেন। আমি তাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। করোনা মহামারিতে যাতে রোগী এবং আমি নিরাপদ থাকতে পারি সে জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা করেই চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি। যারা টাকা দিতে পারে দেয় দিতে না পারলে আমি তাদের বলে চলে যান চিকিৎসা ফি প্রয়োজন নাই।

মার্চ মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নিয়মিত দাঁতের ব্যাথ্যা নিয়ে যারাই আসছেন তাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চরাঞ্চল থেকে এমন ১০ থেকে ১২ জন রোগী এসেছেন। হাসাইল বানারী, বাংলা বাজার, শিলই, সৈয়দপুর থেকে অনেক টাকা খরচ করে দাঁতের ব্যাথা নিয়ে অনেক কষ্ট করে এসে চিকিৎসা নিয়ে সকলেই আমার জন্য দোয়া করেছেন।

এ বিষয়ে ডেন্টিস্ট মো: ফরিদুল হাসান ফরিদ আরো বলেন, সেভ নিয়ে থাকবো তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবো। সমান তালে আমি ফ্রি চিকিৎসা সেবাও দিয়ে যাচ্ছি। এই চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যু হলেও আমার কোন আফসোস নেই। করোনার ভয়ে সকল ডেন্টাল ডাক্তার পালিয়ে যাওয়ায় তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। এই পেশাকে ব্যবসা হিসেবে না নিয়ে মানব সেবা হিসেবে নিয়ে এই পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

জাবেদা বেগম (৭৬) মিরকাদিম থেকে এসেছেন চিকিৎসা নিতে। তিনি মুন্সীগঞ্জের কোথাও দাঁতের চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না। পারিবারিক অবস্থাও তেমন ভালো না। ফরিদ ডেন্টাল প্লাসে চিকিৎসা পেয়ে তিনি মহান রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। দাতের ব্যাথায় রবিন এতটাই কাতর ছিলেন যে তিনি বলছিলেন ডাক্তার সাহেব যত টাকা লাগে দেব আমার নাতির চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে তার নাতির ফ্রিতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

হাসাইল থেকে আসা আল আমিন জানান, সদর হাসপাতালে আসছিলাম দাঁতের চিকিৎসা নিতে। মুন্সীগঞ্জের কোথায়ও দাঁতের চিকিৎসক পাচ্ছিলাম না। তখন ডাক্তার ফরিদ স্যারকে চিকিৎসার জন্য বললে তিনি চেম্বারে এসে আমার দাঁতের চিকিৎসা দেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Munshiganjcrime
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarmunshiga45