1. kaisarsameer13@gmail.com : kaisar Sameer : kaisar Sameer
  2. mostafapress2015@gmail.com : Md. Mostofa : Md. Mostofa
  3. msalamc@gmail.com : first1 :
  4. rubelmadbor786@gmail.com : Editor2 : Rubel Madbor
  5. munshiganjcrimetv@gmail.com : Abdus Salam : Abdus Salam
March 29, 2020, 9:47 pm

লঞ্চের কেবিনে প্রে’ম, ঘ’নিষ্ঠতা: মেঘার ঠাঁই কবরে, মাহিবীর কা’রাগারে!

প্রতিবেদকের নামঃ
  • প্রতিবেদনের সময়ঃ Saturday, December 14, 2019
  • 164 Time View

অনলাইন ডেস্ক:  বরিশালের পথে চলছে এমভি সুন্দরবন লঞ্চ। লঞ্চের একটি কেবিন কক্ষে ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা ও তাঁর প্রেমিক মাহিবী হাসান। পুরো কক্ষ লাল বেলুনে ভর্তি। চলছে কেক কা’টা আর পার্টি স্প্রে ছিটিয়ে মাহিবীর জন্ম’দিন উদযাপন।

কেক কা’টা শেষ হতেই উচ্ছ্বসিত মেঘা প্রেমিক মাহিবীকে বলেন, ‘উইল ইউ ম্যারি মি?’ মাহিবীর উত্তর, ‘ইয়েস।’ এরপর মেঘা ‘কবুল’ বলতে বললে তিনবার কবুল বলেন মাহিবী। পরে জন্ম’দিনের উপহার হিসেবে প্রেমিকের আঙুলে আংটি পরিয়ে দেন মেঘা। এরপর চলে একজন আরেকজনকে খাইয়ে দেওয়া আর খু’নসুটির গল্প। মেঘার মুঠোফোন দিয়ে করা ভি`ডিওতে এসব দৃশ্য দেখা যায়।

মেঘা ও মাহিবীর এ রকম লঞ্চযাত্রা ছিল নিয়মিত ঘটনা। মেঘার ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরা কিংবা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার সময় দুজন একসঙ্গেই হতেন লঞ্চের যাত্রী। শুধু মেঘার জন্যই প্রায় সময় ঢাকায় আসতেন মাহিবী। সায়মা কালাম মেঘার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজে’লার শ্মশানঘাট রোডে। ইডেন কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগে পড়তেন তিনি। মেঘার পাশের ভিআইপি রোডের বাসিন্দা মাহিবী হাসান। বরিশালের হাতেম আলী কলেজে লেখাপড়া করতেন তিনি। তাঁর বাবার নাম মৃ’ত নফিজুর রহমান।

ঝালকাঠিতে থাকাকালে ২০১৬ সালে দুজনের মধ্যে প্রেমের স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স’ম্পর্ক আরো গভীর হয়। নিয়মিত কথা চলত মুঠোফোনে। একসময় মুঠোফোনের মাধ্যমে মজার ছলে বিয়েও করেন তাঁরা। সেই ফোন রেকর্ডিংয়ে প্রথমে মাহিবী বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদের মেয়ে সায়মা কালাম মেঘাকে ২০০১ টাকা দেনমোহর দিয়ে আমি মাহিবী হাসান বিবাহ করিলাম।’ এরপর তিনবার কবুল বলেন মাহিবী। একইভাবে সায়মা কালাম মেঘাও কবুল বলেন।

সায়মা কালাম মেঘা ২০১৭ সালে ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হন। এর পর থেকে মাহিবী প্রায়ই ঢাকায় যাওয়া-আসা করতেন। মেঘা থাকতেন রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায়। মাহিবী হাসান থাকতেন ঝালকাঠির নিজেদের বাড়িতে। মাহিবী ঢাকায় এলে দুজন একসঙ্গে কেনাকা’টা করতেন। আত্মীয়স্বজনের বাসায় সময় কা’টাতেন। শেষে মেঘাকে নিয়ে লঞ্চের কেবিনে করে বরিশালের পথে রওনা হতেন।

একটা সময় মেঘা আর মাহিবীর এই স’ম্পর্কের কথা জেনে যায় দুজনের পরিবার। বিয়ের ব্যাপারেও সম্মতি দেয় তারা। পরিবারের সম্মতিতে মেলামেশা আরো বাড়তে থাকে তাঁদের। কিন্তু পরে মাহিবীর মা তাঁদের এ স’ম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তাই তাঁরা দুবার বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েও সম্পন্ন করতে পারেননি। বিয়ের প্রস্তুতি হিসেবে কেনাকা’টাও করেছিলেন মেঘা। বিয়ে উপলক্ষে চলতি বছরের মা’র্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে মেঘা তাঁর বন্ধুদের দাওয়াত দিলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়মতো আসেননি মাহিবী।

এর পরে শুরু হয় মাহিবী আর মেঘার মধ্যে ঝগড়া। মেঘাকে অ’পমান ও কটু কথা বলে মানসিক নি’র্যাতন করতে থাকেন মাহিবী। একটা সময় মেঘাকে বলেন, ‘আমা’র বিদেশ যেতে ১০ লাখ টাকা লাগবে। তোমা’র বাবার কাছ থেকে এই টাকা এনে দেবে। না হলে তোমাকে আমা’র বিয়ে করা সম্ভব না।’ এই কথা মেঘা তাঁর মা রুবিনাকে জানালে তিনি গত ১৫ এপ্রিল মাহিবীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজনকে জানান।

পরে মাহিবীর মা ঝালকাঠির কী’’র্তিপাশা হা*সপা*তালের নার্স সেলিনা নফিজ কোনো শর্ত ছাড়াই ছেলের বিয়ে দিতে রাজি হন। তবে প্রথমে রাজি হলেও পরে আবার মুখ ফিরিয়ে নেন মাহিবীর মা। এরপর মেঘাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন মাহিবী। এতে পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েন মেঘা। বেছে নেন আত্মহ’ত্যার পথ।

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল, বিকেল। আত্মহ’ত্যার আগে কাঁঠালবাগানের বাসায় বসে মেঘা নিজের হাত কে’টে তা ভি`ডিওকলে মাহিবীকে দেখান। তবু বেঁচে থাকার উৎসাহ না পেয়ে কিছু সময় পর ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়েন মেঘা। সেই দৃশ্যও মাহিবী হাসান দেখেন ভি`ডিওকলের মাধ্যমে। এ ঘটনা ঘটে বিকেল ৫টার দিকে। ৫টা ৯ মিনিটে মেঘার মা রুবিনা বেগমকে মুঠোফোনে এ ঘটনা জানান মাহিবী হাসান।

আত্মহ’ত্যার আগে মেঘা একটি লেখা লিখে তাঁর ব্যাগের ভেতরে রেখে যান। ওই সুই’সাইড নোটে তিনি লিখেন, ‘আমি বাঁচতে চাইছিলাম, কিন্তু মাহিবী আর ওর মা আমা’রে বাঁচতে দেয় নাই। আমি মাহিবীর কাছে বারবার কুত্তার মতো যাই, আর ওর মা-বোন আমা’রে যা তা বলে। আব্বু-আম্মু আমা’রে মাফ কইরা দিও। আমা’র লা’শের আশপাশেও যেন মাহিবী আসতে না পারে।’

সায়মা কলাম মেঘা ও মাহিবী হাসানের লঞ্চ ভ্রমণ, তাঁদের নানা সময়ের ছবি, প্রেমের টানাপোড়েন ও আত্মহ’ত্যার সময়কালের কথোপকথন, অডিও-ভি`ডিও ও এ-সংক্রান্ত অন্য অনেক তথ্য এনটিভি অনলাইনের হাতে এসেছে। সেসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন।

ঘটনার দিন অনেক তথ্য-প্রমাণই মেঘার পরিবারের কাছে ছিল না। সে জন্য সেদিন মেঘার চাচা আবুল বাসার ঢাকা মহানগর পু’লিশের (ডিএমপি) কলাবাগান থা*নায় একটি অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলা করেন। পরে সায়মা কালাম মেঘার মুঠোফোনের যাবতীয় তথ্য-প্রামাণ হাতে পায় তাঁর পরিবার। পরে মেঘার পরিবার মাহিবী হাসানের বি’রুদ্ধে কলাবাগান থা*নায় হ’ত্যা মা’মলা করতে গেলে মা’মলা নেওয়া হয়নি। থা*না

থেকে মেঘার পরিবারকে বলা হয়, ‘ময়নাত’দন্তের প্রতিবেদন না পেলে হ’ত্যা মা’মলা নেওয়া সম্ভব না।’ এসব কথা এনটিভি অনলাইনকে জানান মেঘার মা রুবিনা বেগম। রুবিনা বেগম বলেন, ‘পরে দুই মাস ঢাকা মেডিকেলে ঘুরেছি। কিন্তু ময়নাত’দন্তের রিপোর্ট পাইনি।’

এরপর ২ জুলাই ঢাকার নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মা’মলা করা হয়। মা’মলায় আ’সামি করা হয় মাহিবী হাসান (২৫), তাঁর মা সেলিনা নফিজ (৫০), বোন নওরীন ব’ন্যা (১৮) ও সুব্রত দাসের বি’রুদ্ধে (২৫)। এরপর মা’মলা’টি পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করেন আ’দালত। ২০ সেপ্টেম্বর আ’দালতে মা’মলার অ’ভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। সেখানে শুধু মাহিবীকে আ’সামি করে বাকি তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে অ’ভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রুবিনা বেগম বলেন, ‘অথচ এ ঘটনায় মাহিবীর মা খুব ভালো’ভাবে জ’ড়িত। মাহিবীর মা আমা’র মেয়েকে বিভিন্ন সময় গালি দেন এবং ম’রে যেতে বলেন। সেসব প্রমাণও আমাদের কাছে আছে।’ রুবিনা বেগম আরো বলেন, ‘এরপর ২২ সেপ্টেম্বর মাহিবীর মা আমাদের বি’রুদ্ধে জিডি করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর

আমি পিবিআইর দেওয়া রিপোর্টের বি’রুদ্ধে আ’দালতে পিটিশন করি। কারণ, মাহিবীর মা আমা’র মেয়ে হ’ত্যার প্র’রোচনা দেওয়ার জন্য জ’ড়িত, সেই প্রমাণ আমা’র কাছে ছিল। দুদিন পর বিচারক আবার পিবিআইর দেওয়া প্রতিবেদনের বি’রুদ্ধে গিয়ে মাহিবী, তাঁর মা ও বোনের বি’রুদ্ধে গ্রে’প্তারি পরোয়ানা জারি করেন।’

মেঘার মা বলেন, ‘৩ অক্টোবর সেই গ্রে’প্তারি পরোয়ানা আমাদের ঝালকাঠি থা*নায় পাঠিয়ে দেন আ’দালত। কিন্তু কাউকেই গ্রে’প্তার করেনি পু’লিশ। পু’লিশকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মাহিবীর এক আত্মীয় আছেন, যিনি পু’লিশ। তিনি যোগাযোগ আর টাকা-পয়সা দিয়ে পু’লিশকে সামাল দিয়েছেন। এবং ভেতরে ভেতরে আমাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন।’

ঝালকাঠিতে মেঘার পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা চেষ্টার একপর্যায়ে গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় এসে আত্মসম’র্পণ করে জামিন আবেদন করেন মাহিবী, তাঁর মা সেলিনা নফিজ ও বোন নওরিন ব’ন্যা। তখন আ’দালত মাহিবী হাসানকে গ্রে’প্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান এবং তাঁর মা ও বোনকে জামিন দেন।

২৬ নভেম্বর জামিন পাওয়ার পর মাহিবীর মা ও বোন মেঘার পরিবারকে হুমকি দিতে থাকেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মেঘার পরিবার। এমনকি মেঘার বাবা ও ভাইকে মা’দক মা’মলায় ফাঁ’সিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। মাহিবীর মা সেলিনা নফিজ তাঁর লোকজন দিয়ে এ হুমকি দেওয়াচ্ছেন বলে রুবিনা বেগমের দাবি। গত সোমবার ঝালকাঠি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে ১০৭ ধারায় একটি হুমকির মা’মলা করেছেন মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ।  সুত্র: এনটিভি অনলাইন।

আপনি এই খবরটি নিচের কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার জন্য এ ধরনের আরও সংবাদঃ
© All rights reserved © 2020 TV Site by  Munshiganj Crime TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
>