1. kaisarsameer13@gmail.com : kaisar Sameer : kaisar Sameer
  2. mostafapress2015@gmail.com : Md. Mostofa : Md. Mostofa
  3. mj.fakir1984@yahoo.com : Md. Jahangir Hossain : Md. Jahangir Hossain
  4. msalamc@gmail.com : first1 :
  5. rubelmadbor786@gmail.com : Editor2 : Rubel Madbor
  6. munshiganjcrimetv@gmail.com : Abdus Salam : Abdus Salam
April 4, 2020, 9:17 pm

যেভাবে মুন্সীগঞ্জে গাইড বইয়ের অবাধ বিস্তার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রতিবেদনের সময়ঃ Wednesday, March 11, 2020
  • 39 Time View

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যান্য জেলা যখন শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে মুন্সীগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই অবনতির দিক চলে যাচ্ছে। ফলে সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরাও হয়ে পড়ছেন দিশেহারা। সন্তানের মঙ্গলের জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেও সন্তানের শিক্ষার তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না এই জেলা বাসীদের। শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর জবাবদিহীতার অভাবে ক্রমেই লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষকদের খামখেয়ালী ও অতি আয়ের আকাঙ্খা এর অন্যতম কারণ। শিক্ষকরা ক্লাসের চেয়ে বাইরের পড়াকে যেমন বেশি গুরুত্বদেন, তেমনি নামীদামি উপহারের আশায় মূল বইয়ের থেকে গাইড বইকে বেশি প্রাধান্য দেয়ায় সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে মুন্সীগঞ্জ শহরের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এখন অনেকটাই গাইড কেন্দ্রিক। এর জন্য দায়ী শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিদ্যালয়ের মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকগণ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের কেকে গভঃ ইনস্টিটিশন এর প্রধান শিক্ষক প্রকাশনী কোম্পানীর নিকট অর্থের বিনিময়ে বাংলা ও ইংরেজি গ্রামার বই সহ অন্যান্য সকল গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। ফলে শিক্ষার্থীরাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে নিম্ন মানের গাইড বই কিনে পড়ালেখা করে। অথচ সরকারে দেয়া বাংলা ও ইংরেজি গ্রামার বই কে কে স্কুলে পড়ানোই হয় না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তাদের কোচিং এর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কোম্পানীর গাইড বই কিনতে বলেন। যেমনঃ পাঞ্জেরী, লেকচার গাইড, মাহফুজ আলম পাঞ্জেরী ও লেকচার, রাজ্জাক স্যার, আতোয়ার স্যার, বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড কেনার পরামর্শ দেন শিক্ষার্থীদের এমনটিই পাওয়া গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে।

এভিজেএম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অনিল চন্দ্র বর্মণ পাঞ্জেরী ও লেকচার, তৌফিকুল ইসলাম পাঞ্জেরী ও এডভান্সড গাইড, সামসুল আলম এডভান্সড গাইড, আসমা আকতার অনুপম গাইড, সাহাবউদ্দীন এডভান্সড প্রকাশনী, ইমরাণ হোসেন নবদূত প্রকাশনী , সোহানা বিনতে হাফিজ এডভান্সড, নিবিড় চন্দ্র গুহ পাঞ্জেরী ও লেকচার, গফুর সরকার পাঞ্জেরী প্রকাশনী, জোহরা আকতার এডভান্সড গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে বলেন বলে অভিযোগ স্কুলের শিক্ষার্থীদের।

ফুলতলা মোহাম্মদীয়া বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইব্রাহীম শেখ রনি শিক্ষার্থীদের মূল বই রেখে পাঞ্জেরী ও লেকচার বই কেনান এবং পড়ান। শহরে দুটি সরকারি বিদ্যালয় সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় গাইড থেকে। ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের বদলে গাইড বই থেকে কমন পাওয়ার আশায় মূল বই বাদ দিয়ে গাইড কেই প্রাধান্য দেয় বেশি। শহরের কোন বিদ্যালয়েই প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গাইড থেকে প্রশ্ন না করার কোন নির্দেশনা দেন না প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশন বাবদ ফি নিজেরা গ্রহণ করলেও মূলত কোন মডারেশনই হয় না। ফলে গাইড বই থেকে প্রশ্ন কমন পাওয়ার প্রবনতা গাইড বইয়ের বিক্রি যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মুখস্থ নির্ভরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গাইডকেন্দ্রিক শিক্ষার কারনে৷

পরিস্থিতি এমন যে অভ্যন্তীণ পরীক্ষায় প্রশ্ন গাইড থেকে কমন পাওয়ার একটা অভ্যাস থেকে শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায়ও গাইড থেকে প্রশ্ন কমন খুজে। কিন্তু বর্তমানে বোর্ডের প্রশ্ন গাইড কেন্দ্রিক না হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধ্বস নেমে এসেছে বিগত কয়েক বছরে। প্রশাসনের উদাসীনতা, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অযোগ্যতা এবং শিক্ষকদের উপহার প্রাপ্তির লোভ মুন্সীগঞ্জের গাইডের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বলা বাহুল্য যে মুন্সীগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোটাই গাইড নির্ভর।

শিক্ষকদের সাথে পাল্লা দিয়ে গাইড বইয়ের অবাধ ব্যবহার চলছে শহরের কোচিং সেন্টারগুলোতে। রাজু কোচিং সেন্টার, এলাইভ কোচিং সেন্টারসহ সব কোচিং এ শিক্ষার্থীদের তোতা পাখির মত পাঞ্জেরী ও লেকচার গাইড মুখস্থ করানো হয়, কারন শহরের সব স্কুলের প্রশ্নই আসে এসব গাইড থেকে। তাই তো রীতিমত প্রতিযোগিতা চলছে গাইড বইয়ের ব্যবহার নিয়ে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউনুস ফারুকী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে আমরা কিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিষয়টি দ্রুত দেখবো।

জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সামিউল মাসুদ জানান, কয়েকদফা অভিযান চালিয়েছি। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়া প্রয়োজন সেই ধরনের কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় কার্যক্রমের অগ্রগতি নেই।

আপনি এই খবরটি নিচের কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার জন্য এ ধরনের আরও সংবাদঃ
© All rights reserved © 2020 TV Site by  Munshiganj Crime TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
>