1. kaisarsameer13@gmail.com : kaisar Sameer : kaisar Sameer
  2. mostafapress2015@gmail.com : Md. Mostofa : Md. Mostofa
  3. mj.fakir1984@yahoo.com : Md. Jahangir Hossain : Md. Jahangir Hossain
  4. msalamc@gmail.com : first1 :
  5. rubelmadbor786@gmail.com : Editor2 : Rubel Madbor
  6. munshiganjcrimetv@gmail.com : Abdus Salam : Abdus Salam
April 4, 2020, 9:54 pm

মুন্সীগঞ্জ ইদ্রাকপুর কেল্লাটিকে দ্রুত জাদুঘর নির্মাণ সময়ের দাবী

আব্দুস সালাম
  • প্রতিবেদনের সময়ঃ Friday, March 6, 2020
  • 51 Time View

নদীবেষ্টিত রাজধানী ঢাকা। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবল থেকে নগরটিকে সুরক্ষিত রাখতে মোগল আমলে ইছামতী নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় ইদ্রাকপুর কেল্লা বা দুর্গ। ইছামতী ও মেঘনার সঙ্গমস্থলে দুর্গটি তখন সামরিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধারণা করা হয়, এটির নির্মাণকাল বাংলার মোগল সুবাদার মীর জুমলার শাসনকালে (১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চল কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে দুর্গ সংস্কার ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়। এ কাজের অংশ হিসেবে দুর্গের ওপরের বাংলোটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে আঞ্চলিক সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। জাদুঘর স্থাপন ও সংস্কারের বাকি কাজের জন্য দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সেই প্রকল্পটি এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

৩৫০ বছরের বেশি পুরোনো ইদ্রাকপুর কেল্লা মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য। বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রীস্টাব্দে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে তদানীন্তন ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। কালের পরিক্রমায় সেই ইছামতীর গতিপথ পাল্টে গেছে। তবে দুর্গটির এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী এখনো বহমান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সম্প্রতি ইদ্রাকপুর কেল্লা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গের ভেতরে জাদুঘর ও সংস্কৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রথম ধাপের কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরুর প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত।

দুর্গটি নারায়নগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে আয়তনে কিছুটা ছোট। ৮২ মি. * ৭২ মি. আয়তাকার নির্মিত ইটের তৈরি এই দুর্গটি তৎকালীন মগ জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণের হাত থেকে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার জন্য মোগল আমলে ইছামতী নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় ইদ্রাকপুর কেল্লা বা দুর্গ। ইছামতী ও মেঘনার সঙ্গমস্থলে দুর্গটি তখন সামরিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধারণা করা হয়, এটির নির্মাণকাল বাংলার মোগল সুবাদার মীর জুমলার শাসনকালে (১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।

সুরঙ্গপথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের যোগাযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। সুউচ্চ প্রাচীরবিশিষ্ট এই দুর্গের প্রত্যেক কোনায় রয়েছে একটি বৃত্তাকার বেষ্টনী। দুর্গাভ্যন্তর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপের জন্য প্রাচীরের মধ্যে অসংখ্য চতুষ্কোনাকার ফোঁকর রয়েছে একমাত্র খিলানাকার দরজাটির অবস্থান উত্তর দিকে। মূল প্রাচীরের পূর্ব দেয়ালের মাঝামাঝি অংশে ৩৩ মিটার ব্যাসের একটি গোলাকার উঁচু মঞ্চ রয়েছে। দূর থেকে শত্রুর চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় প্রতি দুর্গে এই ব্যবস্থা ছিল।

এই মঞ্চকে ঘিরে আর একটি অতিরিক্ত প্রাচীর মূল দেয়ালের সাথে মিলিত হয়েছে। দুর্গের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সূদৃঢ় করার জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। কেল্লাটির তিন কিলোমিটারের মধ্যেই ইছামতী, ধলেশ্বরী, মেঘনা এবং শীতলক্ষা নদীর অবস্থান। মোঘল স্থাপত্যের একটি অনন্য কীর্তি হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত মুন্সীগঞ্জের ইতিহাস (২০০৩) বইয়ে দুর্গটি সম্পর্কে লেখা হয়েছে, বারভূঁইয়াদের দমনের উদ্দেশ্যে এবং ঢাকাকে জলদস্যুদের কবল থেকে রক্ষার জন্য সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ সালে ইদ্রাকপুর দুর্গ নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, এ দুর্গকে ঘিরেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জের বসতি। স্থাপনাটি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ইদ্রাকপুর নামে একটি এলাকাও রয়েছে।

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় মোগলদের পতন হলে ইদ্রাকপুর দুর্গটি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ ভারতে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ কর্তৃপক্ষ ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়।
পরবর্তী সময়ে মহকুমা গঠিত হওয়ার পর প্রশাসকেরা ইদ্রাকপুর দুর্গকে বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। জেলা প্রশাসকেরাও একই ধারা অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে দুর্গটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসকদের জন্য নতুন বাংলো নির্মাণ করা হয় এবং দুর্গের ওপরে নির্মিত বাংলোটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

একপর্যায়ে দুর্গটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসকদের জন্য নতুন বাংলো নির্মাণ করা হয় এবং দুর্গের ওপরে নির্মিত বাংলোটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত বছর দুর্গটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইট নির্মিত চার কোনা দুর্গটি উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত এবং এর দৈর্ঘ্য ৮৬.৮৭ মিটার ও প্রস্থ ৫৯.৬০ মিটার। দুর্গটির গায়ে বন্দুকের গুলি চালানোর উপযোগী ফোকর আছে।

লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, ড্রামের পাদদেশে ভূগর্ভস্থ একটি কুঠুরি এবং কুঠুরিতে অবতরণের জন্য নির্মিত সিঁড়ি। জনশ্রুতি আছে, সিঁড়িটি ছিল একটি গোপন সুড়ঙ্গপথের অংশ, যার মধ্য দিয়ে দুর্গে অবস্থানকারীরা কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যেতে পারত। আসলে সিঁড়িটি ছিল ভূগর্ভস্থ একটি গোপন কক্ষে অবতরণের পথ। আর কক্ষটি ছিল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রাখার গুদামঘর।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্গের প্রাচীরে চুন-সুড়কি দিয়ে রং করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে অবস্থিত পুরোনো জেলখানা ভবনে জাদুঘর স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্গের ভেতরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় ও তাদের কর্মচারীদের থাকার জন্য ছোট ছোট নির্মিত ঘর সার্বিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে। বাইরে প্রধান ফটকের পাশে পৌরসভার নির্মিত শৌচাগার ও টেনিস ক্লাবের ভবনটি দুর্গের সৌন্দর্যে আরও একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এদিকে জাদুঘরের নাম কী হবে, এখনো ঠিক হয়নি। তবে মুন্সীগঞ্জ জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মতিউল ইসলাম ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ কাদেরসহ স্থানীয় অনেকের প্রস্তাব, প্রতিষ্ঠানটির নাম হোক ‘মুন্সীগঞ্জ প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর’। এই কেল্লাটিকে যত দ্রুত সম্ভব জাদুঘর বিনির্মাণে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিবে এই দাবী মুন্সীগঞ্জবাসীর।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায় মুন্সীগঞ্জ ক্রাইমটিভিকে বলেন, প্রথম ধাপে মুন্সীগঞ্জ জেলার ইদ্রাকপুর দুর্গে ২০১৩-১৪ অর্থ সালে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলোসহ অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ, ইদ্রাকপুর দুর্গের সংস্কার-সংরক্ষণ কাজ, ইদ্রাকপুর দুর্গে পুরাতন জেলখানাকে জাদুঘরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ছাদ নির্মাণসহ জেলখানা মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ইদ্রাকপুর দুর্গে বিদ্যুতায়ন, পাথওয়ে নির্মাণ, গণশৌচাগার, ডেব্রিজ অপসারণ, পুকুর পাড় বাঁধাই ও বাগান বিন্যাস কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইদ্রাকপুর দুর্গে কোন সংস্কার-সংরক্ষণ ও নির্মাণ কাজ চলমান নেই।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। অতি শীঘ্রই উন্নয়ন মূলক কাজ শুরু করবেন তারা।

আপনি এই খবরটি নিচের কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার জন্য এ ধরনের আরও সংবাদঃ
© All rights reserved © 2020 TV Site by  Munshiganj Crime TV
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
>