মুন্সীগঞ্জে টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি সভাপতি জনি, সম্পাদক সেতু ও কোষাধ্যক্ষ সুমন

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় জড়িতদের নিয়ে ‘টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জ’- নামে একটি নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। শনিবার দুপুরে সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন সজলের সভাপতিত্বে এক নির্বাচনি সাধারণ সভায় এই সংগঠনের এক বছর মেয়াদী ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। নতুন এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন দেশটিভির সুজন হায়দার জনি, সাধারণ সম্পাদক নিউজ টুয়েন্টি ফোর টিভি’র সেতু ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন এনটিভির মঈনউদ্দিন সুমন।

এছাড়া কমিটির অন্যান্যরা সদস্যরা হলেন-সহসভাপতি মো. জসীমউদ্দিন দেওয়ান (একাত্তর টিভি), সহসভাপতি সাইফুর রহমান টিটু (একুশে টিভি), যুগ্ম-সম্পাদক পদে কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল (এশিয়ান টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শামীম (দীপ্ত টিভি), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন (মাইটিভি), তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুজন পাইক (মোহনা টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক এম তরিকুল ইসলাম (জয়যাত্রা টিভি)। এছাড়া কার্যকরী কমিটির নির্বাহী সদস্যরা হলেন-মোজাম্মেল হোসেন সজল (ডিবিসি নিউজ), এ কে আজাদ মুন্না (চ্যানেল২৪), সোনিয়া হাবিব লাবনী (বাংলা ভিশন), আমিরুল ইসলাম নয়ন (বিজয় টিভি), মাহমুদুল হাসান (যমুনা টিভি) ও মো. রুবেল ইসলাম তাহমীদ (সময় টিভি)।

শোক সংবাদ: ডা. আ. গফুর দেওয়ান শাহিন চলে গেলেন না ফেরার দেশে

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
দৈনিক সবুজ নিশান পত্রিকার সম্পাদক এডভোকেট মু. আবুসাঈদ সোহানের বড় ভাই শাহিন হোমিও হল-এর স্বত্বাধিকারী ডা. আ. গফুর দেওয়ান শাহিন (৬৩) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি স্বনামধন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মৃত আলহাজ্ব নেওয়াজ আলী দেওয়ানের বড় ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাঠাদিয়া গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বাগমামুদালী গ্রামে গ্রামে বাস করতেন। তিনি শহরের ১১ নং সুপার মার্কেট (নীচ তলায়) শাহিন হোমিও হল নামে একটি চেম্বারে সুদীর্ঘ সময় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন।

ডা. আ. গফুর দেওয়ান শাহিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো: মহিউদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সকল সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও কবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দও শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে শহরের প্রধান সড়কের কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন রাস্তায় বাদ আসর ডা. আ. গফুর দেওয়ানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কাটাখালি কবরস্থানে তার দাফন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মু.আবুসাঈদ সোহান

স্টাফ রিপোর্টার: মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন এডভোকেট মু. আবুসাঈদ সোহান। তিনি একাধারে সাংবাদিক,আইনজীবী ও কবি হিসেবে মুন্সীগঞ্জে বেশ পরিচিত। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ শনিবার (২৫ শে ফাল্গুন ১৩৭৯ বঙ্গাব্দ) মুন্সীগঞ্জ শহরের বাগমামুদালী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত. ডাঃ মোঃ নেওয়াজ আলী দেওয়ান, মাতাঃ  সুফিয়া আক্তার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। দুই সন্তানের জনক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর তিনি নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন কর্মকান্ডে। স্কুল জীবন থেকেই সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণধর্মী সংগঠন তাকে আকর্ষণ করতো। এ কারণে কর্মজীবনে এসেও তিনি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির হানছানি উপেক্ষা  করতে পারেননি।

সাংবাদিকতার জীবনে সোহানের ‘সাপ্তাহিক মুন্সীগঞ্জ’ দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে আর.টি.ভি ও জাতীয় দৈনিক মুক্তকন্ঠসহ বিভিন্ন টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া প্রয়াত ভাষা সৈনিক সাংবাদিক নেতা সফিউদ্দিন আহমেদের ‘সাপ্তাহিক বিক্রমপুর বার্তা’ পত্রিকায় সম্পাদক এবং বেশ কয়েকটি দৈনিকে নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তিন তিনবার কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতীয় দৈনিক সবুজ নিশান পত্রিকার সম্পাদক ও দি ডেইলী ট্রাইব্যুনাল নামের ইংরেজী পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কর্মরত আছেন।

মু.আবুসাঈদ সোহান ১৯৮৫ সালে ইদ্রাকপুর সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করেন এবং সাধারণ  গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে মুন্সীগঞ্জ কে.কে. গভ: ইনস্টিটিউট থেকে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে পাশ করেন। ১৯৯৩ সালে মুন্সীগঞ্জ সরকারী হরগঙ্গা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচ.এস.সি ও ১৯৯৫ সালে বি.এ পাশ করেন। তিনি এইচ.এস.সি পরীক্ষায় ভূূগোলে লেটার মার্কসহ মুন্সীগঞ্জ জেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৭ সালে ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পেয়ে এম.এ ডিগ্রী  অর্জন করেন। ২০০২ সালে মুন্সীগঞ্জ ল’ কলেজ থেকে এল.এল.বি ডিগ্রী লাভ করেন।

স্কুল পর্যায় থেকে লেখালেখি এবং কলেজ পর্যায় থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন মু.আবুসাঈদ সোহান। স্কুল ও কলেজের সাময়িকীতে বিভিন্ন কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। ২০১৬ সালে ঢাকার বই মেলায় ‘ভালবাসার মেঘমালা’ নামের একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কলেজে পড়াশোনা করা অবস্থায় অনুপ্রাস কবি সংগঠনের সাথে জড়িত হন। কলেজ যুব রেডক্রিসেন্টের দলনেতা ছিলেন। পরবর্তীতে যুব রেডক্রিসেন্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার যুবপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, মুন্সীগঞ্জ জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য। মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনাকালীন খালইষ্টে শিশু-কিশোরদের নিয়ে ‘নবজাগ্রত খেলাঘর’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন করেন। কলেজ জীবন পেরিয়ে তিনি ‘উদ্ভাস সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি সংগঠন করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদী কাঠাদিয়া গ্রামে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বই ও পড়াশোনা, দু:স্থ মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান করে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। এছাড়া ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গ্রামবাসী এ কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে উদ্ভাস সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’র নামে ৩ শতাংশ জমি দান করেন। বর্তমানে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

এছাড়াও  সোহান ২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেটার তৈরী ও জেলাব্যাপী ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ‘মুন্সীগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেন। একাডেমীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একাডেমী থেকে বিপুল সংখ্যক ছেলে মেয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে সুনামের সাথে খেলছেন। তিনি ‘মুন্সীগঞ্জ স্পোর্টস একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন খেলাধূলার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মৃত্তিকা’র সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সংগঠন মুন্সীগঞ্জের সুধীজনকে সম্মাননাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে। সোহান সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠনের পাশাপাশি কবি সংগঠনেও জড়িত। তিনি কবি পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তিনি কাজের স্বীকৃতি হিসাবে সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ কর্তৃক ‘মাদার তেরেসা পদক’ পেয়েছেন। সাংবাদিকতায় পেয়েছেন ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা স্বর্ণ পদক’। এছাড়াও রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ অক্টোবর শনিবার ঐতিহ্যবাহী মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট চলবে সকাল ৯ টা থেকে বিরতিহীনভাবে দুপুর ১ টা পর্যন্ত। মোট ভোটার ৪৮ জন। মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের অনুরোধের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচন অফিসার টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ বদর-উদ-দোজা ভূঁইয়াকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ, ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার বাছাই, ১ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ।

গঠনতন্ত্র মোতাবেক সম্মেলন করতে জেলা আওয়ামী লীগ মনিটরিং কমিটি

সোহানা তাহমিনাঃ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিবারের প্রেরিত পত্রের দিক নির্দেশনার মতে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ অধীন সকল উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসমুহের সম্মেলনের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মহিউদ্দিন জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার সাপেক্ষে ০৪ (চার) সদস্য বিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে দেন। আলহাজ্ব শেখ মোঃ লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগকে মনিটরিং কমিটির প্রধান এবং অ্যাড. সোহানা তাহমিনা, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, অ্যাড. আবুল কাশেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগকে উক্ত মনিটরিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

অদ্য ১৯ সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, মনিটরিং কমিটির প্রধান আলহাজ্ব শেখ লুৎফর রহমানের বাসভবনের মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, সভার মাধ্যমে ০৬টি উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আওতাধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করার বিষয় জেলা আওয়ামী লীগ স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণ করা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দিক নির্দেশণা প্রদান করা হয়।

সরকারী কাজে বাধা প্রদান ও মাদক মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান ও মাদক মামলার এজহারভূক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১এর একটি টিম। র‌্যাব-১১, সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুর রহমান এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার সময় লৌহজং মাওয়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চু মিয়া (৪২) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাচ্চু মাদারীপুরের শিবচর থানার বশারকান্দি গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন আকনের ছেলে।

র‌্যাব-১১ সূত্র জানায় বাচ্চু মিয়া (৪২) মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগন থানার মামলা নং- ০৭/১১৯,তারিখ- ০৮/০৫/২০১৯ইং,ধারা- ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ১৪৩/৩৫৩/৩৩২/৩৩ এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগন থানার মামলা নং ০৬/১১৮, তারিখ- ০৮/০৫/২০১৯ইং, ধারা- ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) এর ১০(ক) এর সরকারী কাজে বাধা প্রদান ও মাদক মামলার এজাহারভূক্ত আসামী। আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাবের অভিযানে ২১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ২১২ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মনসুর দেওয়ান (৩৪) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাব-১১, সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুর রহমান জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলার সিরাজদিখান থানাধীন ইছাপুরা লোহার পুকুর পাড়ের দক্ষিনে শেখ জয়নাল ভ্যারাইটিজ ষ্টোর নামক দোকানের বিপরীত পাশ থেকে পশ্চিম শিয়ালদির মৃত হযরত আলী দেওয়ানের ছেলে মনসুর দেওয়ান (৩৪) কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা করা হয়েছে।

ক্যান্সার আক্রান্ত আমেনা বাঁচতে চায়

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না মুন্সীগঞ্জ সদরের বাইন্যা বাড়ি গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত আমেনা বেগমের (৩১)। তিনি ওই গ্রামের আল-আমিন সিকদারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
প্রায় দেড় বছর আগে ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন আমেনা বেগম। দিনমজুর স্বামীর পক্ষে চিকিৎসা খরচ মেটানো সম্ভব নয়। তাই দুই সন্তান নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমেনা।
জানা গেছে, ৮ বছর আগে সদর উপজেলার মিরাপাড়া এলাকার মৃত আমিন হোসেনের মেয়ে আমেনা বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বাইন্যা বাড়ি গ্রামের দিনমজুর আল-আমিন সিকদারের বিয়ে হয়। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। সুখে-শান্তির সংসারে হঠাৎ করেই দেখা দেয় দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। দেড় বছর আগে আমেনার ব্রেষ্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসা শুরু করে রাজধানীর ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে বছর খানেক আগে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে টাকার অভাবে কেমোথেরাপি দিতে না পারায় ব্রেষ্ট ক্যান্সার ফের দানা বাঁধে। বর্তমানে আমেনার চিকিৎসা খরচ মেটাতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই খরচ মেটানো সম্ভব নয়। কিন্তু দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চায় আমেনা বেগম। তাই তার চিকিৎসা খরচ মেটাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আমেনা। তাকে সহযোগিতা পাঠাতে ০১৯৬২০৮৪৭৪৩ অথবা ০১৮৭৪৬৩৫২৩০ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

নড়িয়ায় ভুমি সহকারী কর্মকর্তার সহায়তায় সরকারী জলমহল জবরদখল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার করনহোগলা এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার সহয়তায় বিরাট জলমহল জবর দখল করে মাছ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে। দখলদার বলছেন, দুইবার বন্দোবস্ত নেয়ার পর আর নবায়ন করেনি। লিজের টাকা স্থানীয় ফুয়াদ সরকারকে পরিশোধ করে। ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা বিষয়টি না জানার ভান করছেন। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

করনহোগলা এলাকার স্থানীয় আবদুর রহমান, আতাউর রহমান ও স্থানীয় ভুমি অফিস সূত্রে জানাযায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের করনহোগলা মৌজায় বিগত ৮/১০ বছর পূর্বে ঢাকা থেকে এসে লঞ্চ থেকে যাত্রি উঠা নামা করতো। এ লঞ্চঘাটটির নাম কার্তিকপুর লঞ্চঘাট ছিল। এ ঘাট থেকে ৯ বছর পূর্বে ইজারাদার হিসেবে কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ইজারা আদায় করা হতো। পরবর্তীতে নদী শুকিয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষে স্থানীয় ঘড়িষার ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহায়তায় পরিমাপ করে লাল নিশান দিয়ে সীমানা নির্ধারন করে দেয়া হয়। এরপর ঐ জমিটি করনহোগলা মৌজায় ১নং খাশ খতিয়ান ২৯৫ দাগে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এখানে প্রায় সাড়ে ৩ একর সরকারী জমি বিগত ৫/৬ বছর পূর্বে ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সহিদুল ইসলাম শান্ত চৌধুরী , সোহেল চৌধুরী ,শহীদ বেপারীসহ ১০ জনের একটি দল সরকারের থেকে ১ সনের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে জলমহল সৃষ্টি করে মাছ চাষ শুরু করে । এরপর ঐ জমি আর বন্দোবস্ত নবায়ন করেনি। বর্তমানে ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সহিদুল ইসলাম শান্ত চৌধুরী শান্ত চৌধুরী ও জয়ন্ত দাস ঘড়িষার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মহব্বত উল্লাহর যোগসাজসে সরকারী জলমহল জবর দখল করে মাছ চাষ করছে। আর এ জমির লিজ বাবদ স্থানীয় আমান উল্লাহ ফুয়াদ সরকার কে প্রতি বছর লিজের বাবদ ৯৭,৫০০ টাকা দেয়া হয় বলে মাছচাষীরা জানায়। এ লিজের টাকা সরকারকে না দিয়ে ফুয়াদ সরকার নিজেই আতœসাৎ করে। এতে করে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অপর দিকে সরকারী জমি সরকারের হাত ছাড়া করার জন্য স্থানীয় ঘড়িষার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বশবতি হয়ে তারই যোগসাজসে জমির শ্রেনী পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছে। জরুরী ভিত্তিতে সরকারের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ হস্তক্ষেপ না করলে সরকারের জমি হাত ছাড়া হয়েবিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে করনহোগলা গ্রামের বাসিন্দা জমি পরিমাপকারী (আমিন) হাবিবুর রহমান সেন্টু বলেন , এ জমি স্থানীয় ঘড়িষার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার সহায়তায় আমি নিজে উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে সরকারের পক্ষে লাল নিশানা দিয়ে সীমানা নির্ধারন করেছি। পরিমাপ অনুযায়ী উল্লেখিত জলমহলটি সরকারের ১নং খাশ খতিয়ানের আওতাভুক্ত। যার দাগনং ২৯৫।

মাছ চাষী ডি্গংামানিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শান্ত চৌধুরী বলেন, এ জমি ৫/৬ বছর পূর্বে আমরা ১০ জনে মিলে সরকার থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে জলমহল বানিয়ে মাছচাষ শুরু করি। ২ বার বন্দোবস্ত নেয়ার পর আর নবায়ন করিনি। বর্তমানে স্থানী প্রভাবশালী ফুয়াদ সরকার জমির মালিক দাবী করায় তাকে প্রতি বছর লিজ বাবদ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করে থাকি।

এ ব্যাপারে কার্তিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহাব উদ্দিন তালুকদার বলেন, যেখানে জলমহল করে মাছচাষ করা হচ্ছে সেটা এক সময় কার্তিকপুর লঞ্চঘাট ছিল। গত ৯ বছর পূর্বেও আমাদের স্কুলের উন্নয়নের জন্য ইজারার টাকা দেয়া হতো।

আহসান উল্লাহ ফুয়াদ সরকার বলেন, আমি এ জমি একবার সরকার থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ছিলাম। এরপর আমি ডিগ্রী করে মালিক হয়ে এস রেকর্ড করি। বি আর এস জরিপে জমি পুনরায় সরকারের নামে খাশ খতিয়ানভুক্ত হয়। এছাড়া অন্য কাজের জন্য আমাকে টাকা দিতে পারে। আমি জলমহলের বাবদ টাকা নেইনি।

এ ব্যাপারে ঘড়িষার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মহব্বত উল্লাহ বলেন, জলমহলের একাংশ আমার তহশিলের অর্ন্তভুক্ত। আমি মাছ চাষীদের থেকে কোন ফায়দা নেইনি। আমি মাছ চাষের বিষয়ে জানি না। আমি এ জমি শ্রেনী পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা সহকারী ভুমিকর্মকর্তা মোঃ রাসেদুজ্জামান বলেন, আমি এ ব্যাপারে জানি না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। আগামীকাল সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।

সিরাজদিখানে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত শিক্ষক কর্তৃক রমরমা কোচিং বানিজ্য

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের অবস্থিত খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়ে রমরমা কোচিং বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি স্কুলের পাশাপাশি বাড়ীতেও কোচিং বানিজ্য চালাচ্ছেন ওই স্কুলের গনিত ও বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন। গতকাল শনিবার ভোরে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পরে। এছাড়াও ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের কাছে কোচিং করলে তিনি তাদের পরীক্ষার সময় নম্বর বেশী পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেওয়ার কথাও উঠে আসছে। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের কাছে কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়শতাধীক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এর মধ্য থেকে প্রতি ক্লাশের ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে মাসে ৫০০ শত টাকা করে নিয়ে স্কুলে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এবং বাড়ীতে সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কোচিং করাচ্ছেন মোঃ বিল্লাল হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে সরকারী কোন নীতিমালাই মানা মানা হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা পাইকারি হারে শিক্ষার নামে বানিজ্য ছাড়া কিছুই নয়।

বালুচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এ.বি সিদ্দিক মন্টু বলেন, তারাতো কোচিং বানিজ্য আগে থেকেই করে। তবে বর্তমানে আমার জানা নাই।

সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের ৪নং আহবায়ক সদস্য মোঃ আরিফ রশিদ বলেন, কদিন আগে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বিল্লাল হোসেনকে বলে দেয়া হয়েছিল যে, তিনি কোন কোচিং করাতে পারবেন না। কিন্তু এখন তিনি যদি কোচিং করিয়ে থাকে তবে সেটা তিনি অপরাধ করছেন।

বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাস করা কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করার চেয়ে কোচিং করাতে বেশি আগ্রহী। কোচিং করালে তারা বেশি ফি নিতে পারবে। অভিভাবকরা বিদ্যালয়টির অনিয়ম বন্ধের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও আইন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে  আমরা কয়েকটা ব্যবস্থা নিয়েছি উনার বিভিন্ন অপকর্মের কারণে। এর পরেও যদি তিনি কোন অপকর্ম করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিবো আমরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী আব্দুল ওয়াহিদ মোঃ সালেহ বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিবে তারপর আমরা বিষয়টি দেখবো।

এ ব্যাপারে খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়ের গনিত ও বিজ্ঞান বিষয়ক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি আগে কোচিং করাতাম এখন করাই না। মাঝে মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের  সমস্যার জন্য আসে। তা আমি দেখে দেই।

উল্লেখ্য খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়ের গনিত ও বিজ্ঞান বিষয়ক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় জণসাধারণ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ এত অপরাধের পরও কি করে তিনি ওই স্কুলে থেকে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন?

শরীয়তপুর-কানারবাজার রাস্তা নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মানের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর পৌর এলাকার শরীয়তপুর-কানার বাজার রাস্তাটি অত্যন্ত নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মান করার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসি ফুসে উঠেছে। পৌরসভা কতৃপক্ষ বার বার চিঠি দিলে ও তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদার। ঠিকাদার বলছে সিডিউল মোতাবেক ১নং ইট দিয়ে কাজ করছি। লোকজন ইট চিনে না বলে অভিযোগ করছে।

শরীয়তপুর পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্দিক চোকদার ও স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুর পৌর এলাকার শরীয়তপুর (পালং উত্তরবাজার)-কানার বাজার সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। ইতোপূর্বে পৌরসভা দরপত্র আহবান করে সর্বনিম্ম দরদাতা প্রতিষ্ঠান আরকে এস ই জেবি কে কার্যাদেশ প্রদান করেছে। এ কাজের জন্য ব্যয় হবে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রায় ৩ মাস যাবত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ শুরু করে। এ কাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া এতই নিম্নমানের যে চুলার মাটির চেয়ে ও খারাপ। পুরো রাস্তা জুরেই ৩নং ইট দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার। নিম্নমানের ইট বালু দেখে রাস্তার পাশের পৌর নাগরিকরা প্রতিবাদ করে ও কোন সুরাহা হচ্ছে না। পৌরবাসি বিষয়টি পৌর কতৃপক্ষের গোচরিভুত করলে পৌরসভা থেকে সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে খারাপ নির্মান সামগ্রী তথা ৩নং ইট সরিয়ে নিয়ে ১নং ইট দিয়ে কাজ করার জন্য বার বার চিঠি দিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জেলা ছাত্রলীগের যুগ্নআহবায়ক রাশেদুজ্জামান ভুলু কোন তোয়াক্কাই করছে না। সে প্রভাবশালীদের খুটির জোর দেখিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলে রাস্তাটি টিকসই হবে না। কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তাটি ভেঙ্গে যাবে। জরুরী ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে সরকারের কোটি কোটি গচ্ছা যাওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

পৌর এলাকার বাসিন্দা ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি খোকন শাহ বলেন, কাজের মান অত্যন্ত নিম্মমানের। আমরা প্রতিবাদ করলে ও ঠিকাদার কোন তোয়াক্কা করে না। বরং এলাকার কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে উল্টো ভয় দেখায়।

শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুর রহমান রাজ্জাক মোল্যা বলেন, পৌর মেয়র সরেজমিন রাস্তায় তদন্ত করতে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্মান সামগ্যী এতই নিম্মমানের যে কোন নাম্বারের মধ্যে পড়ে না।

এ ব্যাপারে আরকে এস ই জেবি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাসেদুজ্জামান ভুলু বলেন, পৌরসভা আমাকে চিঠি দেয়ার পর আমি খারাপ ইট সরিয়ে নিয়ে ১নং ইট দিয়ে কাজ করছি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী লক্ষীকান্ত হালদার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও ঢাকা থেকে আগত উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে কে সাথে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে খারাপ ইট সরিয়ে নিয়ে ১নং ইট দিয়ে কাজ করার জন্য বার বার চিঠি দেয়া হয়। ঠিকাদার বলছেন সরিয়ে নিবে। সরিয়ে নেয়া না হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শরীয়তপুর পৌর মেয়র মোঃ রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, গত শুক্রবার আমি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত নিম্মমানের ইট দেখতে পাই। আমি নির্দেশ দিয়েছি ভাল ইট দিয়ে কাজ করতে। জরুরী ভিত্তিতে খারাপ ইট সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা নিব।